এক দফা দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে টানা ২৬ ঘণ্টা ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা। তারা গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে এখানে অবস্থান করছেন।প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েরবৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার প্রধান ফটক ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আন্দোলনকারী অবস্থান করছেন গেটের সামনে। পুলিশ ও কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ (এপিবিএন) বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের ঘিরে আছেন।আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, রাতে এখানে তারা খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করেছেন। সকালে অনেকে আশপাশে কোথাও গিয়েছেন। ফলে এখন মানুষের সংখ্যা কম। তবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জুলাই আহতরা রওনা হয়েছেন। দাবি আদায়ে তারাও দুপুর-বিকাল নাগাদ যোগ দেবেন।
শুরুতে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিতে আসলেও পরে তারা এক দফা দাবিতে অনড়।গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্রথম ‘উন্নত চিকিৎসার’ দাবিতে পঙ্গু হাসপাতালে সামনে বিক্ষোভ করেন জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের আহত কয়েক শ’ ব্যক্তি। সেদিন রাত ৩টার দিকে সরকারের চার উপদেষ্টার আশ্বাসে প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর তারা সড়ক ছেড়ে হাসপাতালে ফিরে যান।পরে গত ১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার থেকে আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে সামনে আবারও বিক্ষোভে নামেন আহতরা। সেসময় তারা সুচিকিৎসার পাশাপাশি ‘পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি’রও দাবি তোলেন। সেদিন সেখানে সারা রাত আন্দোলন করার পর ২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে আগারগাঁও ও শ্যামলী মিরপুর রোড সড়ক অবরোধ করে দিনভর বিক্ষোভ করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিরপুর সড়ক ছেড়ে বিক্ষোভরত আহত ব্যক্তিরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যাত্রা করেন।
পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর আশ্বাসে রাত পৌনে ২টার দিকে তারা যমুনার সামনে থেকে বিক্ষোভ ছেড়ে হাসপাতালে ফিরে যান আন্দোলনে আহতরা।বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার প্রধান ফটক ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন আন্দোলনকারী শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন গেটের সামনে। জাতীয় পতাকাবাহী সরকারি কোনো গাড়ি ফটকের সামনে এলেই তারা স্লোগান দিচ্ছেন এক দুই তিন চার, সব শালারা বাটপার।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতে এখানে তারা খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করেছেন। সকালে অনেকে আশপাশে কোথাও গিয়েছেন। ফলে এখন মানুষের সংখ্যা কম। তবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জুলাই আন্দোলনে আহতরা রওনা হয়েছেন।শুরুতে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি এলেও পরে তারা এক দফা দাবিতে অনড়। জুলাই আন্দোলনের সময় কিশোরগঞ্জে ছিটা গুলিতে আহত হয়েছিলেন নাজমুল আহসান। পরে তিনি চিকিৎসা নিয়েছিলেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।সকালে নাজমুল বলেন, ‘আমাদের তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সরকার বৈষম্য তৈরি করছে। গুলিবিদ্ধ যারা আছেন, তাদের সি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। যা স্পষ্ট বৈষম্য হিসেবে দেখছি আমরা। তাই আমরা দুটি ক্যাটাগরি চাই। আমাদের এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালবে।
দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করব।'
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা জুলাই বিপ্লবে আহতদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে রওনা হয়েছেন ঢাকার উদ্দেশে। আশা করছি, দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে সবাই উপস্থিত হবেন।